আজকের ছাড় এই বইয়ে — অফার শেষ হতে বাকি০০:০০:০০
কাঁহা গেলে তোমা পাই - জয়দেব মুখোপাধ্যায়
লেখক: ড. জয়দেব মুখোপাধ্যায় || Dr. Jaydeb Mukhopadhyay
প্রকাশনী: Prachi Publication
নতুন এসেছে — প্রথম পাঠকদের একজন হোন।
৳৪৪০৳৫০০-১২%
সাশ্রয় ৳৬০
সব কর অন্তর্ভুক্ত · ১০০% আসল ভারতীয় সংস্করণ
ফ্রি ডেলিভারি
একই বিক্রেতার ৳২,৯৯০+ বই নিলে সারাদেশে ফ্রি
১০০% আসল বই
ক্যাশ অন ডেলিভারি
৩ দিনে রিটার্ন
ভারত থেকে আনা
সংযোজন :
শ্রীচৈতন্যদেবের অন্তর্ধান রহস্য-১
পুরীর স্বর্গদ্বারের মোড়ে, যেখানে শ্রীচৈতন্যদেবের মূর্তিটা রয়েছে সেখান দিয়েই সমুদ্রের বীচে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়েই চৈতন্যমূর্তি সংলগ্ন প্রথম অস্থায়ী দোকানদারকে...
বইয়ের ভেতরে এক ঝলক

এক নজরে
এই বইয়ে যা পাবেন
Bengali
ভাষা
New
অবস্থা
India
উৎস
বিবরণ
বইটি সম্পর্কে
সংযোজন :
শ্রীচৈতন্যদেবের অন্তর্ধান রহস্য-১
পুরীর স্বর্গদ্বারের মোড়ে, যেখানে শ্রীচৈতন্যদেবের মূর্তিটা রয়েছে সেখান দিয়েই সমুদ্রের বীচে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়েই চৈতন্যমূর্তি সংলগ্ন প্রথম অস্থায়ী দোকানদারকে অঙ্গুলী নির্দেশ করে মূর্তিটা দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, এটা কার মূর্তি? মলিন পোশাকের ওডিয়া দোকানি অবজ্ঞার সাথে বললেন, 'চৈতন্যের'। আমার পরের প্রশ্ন, "এখানে কার মাহাত্মা বেশি, জগন্নাথদেব মন্দিরের না চৈতন্যদেবের?” প্রশ্নটি শুনে ভদ্রলোক একটু রুষ্ট হলেন মনে হল, আমার উদ্দেশ্য সফল হল। উল্টে উনি প্রশ্ন করলেন, 'আপনি কী কারণে এখানে এসেছেন?' অর্থাৎ বোঝাতে চাইলেন জগন্নাথদেবের মাহাত্ম্যের কারণেই আমি পুরী এসেছি। এরপর আর আমার সাথে কথা বলার আগ্রহ দেখান নি। আমার মনে হল, ওনার এই আপাত নিরীহ প্রশ্নের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে শ্রীচৈতন্যদেবের মৃত্যু রহস্যের উপাখ্যান।
স্বর্গদ্বারের ডানদিকে একটু এগিয়েই রাস্তাটা দুটোভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে, বাঁদিকের রাস্তাটায় প্রথমে শ্মশান তারপর এগিয়ে গিয়েছে পুরীর বাজারের দিকে। শ্মশান থেকে একটু এগোলেই মীনাক্ষি হোটেল, তার পাশেই ট্রাভেলিং এজেন্ট কার্তিক দাশের অফিস। তার পাশেই একটা সরু গলি সমুদ্রের দিকে চলে গিয়েছে। গলির শেষে আনন্দময়ীর বিশাল আশ্রমবাড়ি। দরজা দিয়ে ঢুকেই উঠোন, উঠোনের বাঁদিকে বিশাল আশ্রমবাড়ি আর ডানদিকে দুটো ঘর, বারান্দা, চাতাল। চাতালের একদিকে দুটো অগভীর চৌবাচ্চা। ঐ চৌবাচ্চার মধ্যেই গবেষক ডক্টর জয়দেব মুখোপাধ্যায়ের দেহটা পড়েছিল। মাথাটা ভেতরে, পা বাইরে। ভেতরে আধ চৌবাচ্চা জল, মাথাটা পুরো জলে ডোবা ছিল, হাতদুটো পিছন দিকে দড়ি দিয়ে বাঁধা, ঘরের দরজা খোলা, খাটের তলায় মেঝেতে ডক্টর জয়দেব মুখোপাধ্যায়ের মা বিমলা মুখোপাধ্যায় উপুড় হয়ে পড়ে রয়েছেন, মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা বেরোচ্ছিল। ঘরের মধ্যে ঘুমের ওষুধের ছেঁড়া রাংতা, ইংরেজিতে লেখা দুটো সুইসাইড নোট আর প্রচুর বই, প্রাচীন পুঁথি-সব লণ্ডভণ্ড করা, বক্তব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের।
চৈতন্য মৃত্যুরহস্য গবেষক ডক্টর জয়দেব মুখোপাধ্যায় স্বর্গদ্বার অঞ্চলে তথা পুরীতে ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। অনাথ অসহায় বহু মানুষকে তিনি সাহায্য করতেন। পুজোর সময় গরীবদের জামা কাপড় দিতেন, প্রসাদ খাওয়াতেন। প্রতিদিন বহু মানুষ দেখা করতে আসতেন এই মানুষটির সাথে। রাজীব গান্ধীর মতো মানুষকেও ওনার কাছে আসতে দেখা গিয়েছে। এহেন মানুষটিকে যখন দাহ করার জন্য শ্মশানে আনা হয়েছিল, ভয়ে কেউ আসেনি, পুলিশ দাহ করে দিয়ে চলে গেল আর ঘরের সব বইপত্র, প্রাচীন পুঁথি নিয়ে কোথায় চলে গেল, কে জানে। বক্তব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের। কাছের মানুষদের তিনি বলেছিলেন, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শেষ জীবনটা বড় কষ্টের, যারা কষ্ট দিয়েছিলেন, তাদের নাম ফাঁস করে দেব। সব পুঁথি, প্রমাণ পেয়েছি।
১৫১০ খ্রিস্টাব্দে শ্রীচৈতন্যদেব পুরীতে আসেন আর ১৫৩৩ খ্রিস্টাব্দের ২৯শে জুন মাত্র ৪৮ বছর বয়সে ওনার অন্তর্ধান ঘটে। জীবনের শেষ ১৮ বছর পুরীতেই ছিলেন। শ্রীচৈতন্যদেবের অন্তর্ধান রহস্য প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গেলে বারবার ঘুরে ফিরে চলে আসে গবেষক ডক্টর জয়দেব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু রহস্যের কথা। যে মানুষটা গোটা জীবনটাই উৎসর্গ করেছিলেন শ্রীচৈতন্যদেবের মৃত্যু রহস্যের সমাধানের জন্য। ৪৬২ বছর বাদে শ্রীচৈতন্যদেবের মৃত্যুরহস্যের অনুসন্ধানে নেমে যখন প্রায় প্রমাণ করতে চলেছেন শ্রীচৈতন্যকে কিভাবে কারা খুন করেছিল এবং দেহ কোথায় পুঁতে রেখেছিল, ঠিক তখনই (১৯৯৫ সালের ১৭ই এপ্রিল) রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হল সত্যান্বেষী ডক্টর জয়দেব মুখোপাধ্যয়ের। আজ ২৮ বছর বাদেও প্রয়াত জয়দেব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু রহস্যাবৃত। স্থানীয় মানুষ যাকে সরাসরি খুন বলে সন্দেহজনক ব্যক্তির শাস্তি চায়, সরকারি খাতায় তাকেই আত্মহত্যা বলে দেখানো হয়েছে।
প্রয়াত চৈতন্য গবেষক জয়দেব মুখোপাধ্যায় উপন্যাসের আঙ্গিকে লেখা চৈতন্যের সমাধির খোঁজে একটি তদন্তমূলক গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের নাম 'কাঁহা গেলে তোমা পাই'। সেখানে তিনি লিখেছেন, পুরীর ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের কর্মসচিব স্বামী অভিনবানন্দজী এক পত্র লিখে তাকে জানিয়েছেন, তার সুনিশ্চিত ধারণা, মহাপ্রভুর দেহটিকে মণিকোঠার রত্নবেদীর নিম্নেই সমাহিত করা হয়েছিল। একই কথা বলেছেন ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন তার 'Chaitanya and his age' গ্রন্থে, যিনি প্রথম স্পষ্ট করে বলেছিলেন, পুরীর মন্দিরের ভেতরে শ্রীচৈতন্যকে খুন করে পুঁতে ফেলা হয়েছিল। ১৫৩৩ খ্রিস্টাব্দের ২৯শে জুন চৈতন্যদেব গান গাইতে গাইতে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ঢুকেছিলেন। সেই প্রথম আর শেষ মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের দরজা বন্ধ ছিল, (কোভিড পিরিয়ড বাদে) তারপর চৈতন্যকে আর পাওয়া যায় না। এই ব্যাপারে অধিকাংশ চরিতকার একমত। শ্রীচৈতন্যের মৃত্যু রহস্যের উদঘাটনের মাত্র দশদিন মতো বাকী ছিল, এই দশদিন আর শেষ হয়নি, 'কাঁহা গেলে তোমা পাই' উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ডের পাণ্ডুলিপি প্রকাশকের ঘরে পৌঁছনোর আগেই ডক্টর জয়দেব মুখোপাধ্যায়ের
| নাম | কাঁহা গেলে তোমা পাই - জয়দেব মুখোপাধ্যায় |
|---|---|
| লেখক | ড. জয়দেব মুখোপাধ্যায় |
| প্রকাশনী | প্রচী পাবলিকেশন || Prachi Publication |
| ভাষা | Bengali |
| অবস্থা | New |
| মুদ্রণ দেশ | India |
লেখক পরিচিতি
ড. জয়দেব মুখোপাধ্যায়
ড. জয়দেব মুখোপাধ্যায়-এর আরও বই ঘুরে দেখুন। এই লেখকের লেখা পাঠকদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত।
ড. জয়দেব মুখোপাধ্যায়-এর সব বইপ্রকাশনী সম্পর্কে
প্রচী পাবলিকেশন || Prachi Publication
প্রচী পাবলিকেশন || Prachi Publication প্রকাশনীর প্রকাশিত বই — মানসম্মত ছাপা, নির্ভরযোগ্য সংস্করণ। এই প্রকাশনীর আরও বই দেখুন।
প্রচী পাবলিকেশন || Prachi Publication-এর সব বই
